হাসিনার মন্ত্রীসভায় জায়গা পাচ্ছেন বিজয় বাংলা’র উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বার


মঙ্গলবার,০২/০১/২০১৮

তৌহিদুর রহমান আফনান: ক্ষমতার চতুর্থ বছরে এসে মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ আনতে চলেছে বাংলাদেশে সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগেরর নেতৃত্বাধীন জোট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজনকে তেকে পাঠিয়েছে,সে দেশের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গবভনে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়াবেন বলে বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বঙ্গভবনের দরবার হলে এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে, মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার। যিনি বিজয় বাংলা কিবোর্ডের উদ্ভাবক। কিন্তু তিনি যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাকে মন্ত্রিসভায় আনতে হবে টেকনোক্র্যাট হিসেবে।

৬৮ বছর বয়সী মোস্তফা জব্বারই প্রথম ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রণয়ন করলেও পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

১৯৪৯ সালের ১২ই আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানায় জন্ম নেওয়া এই প্রযুক্তিবিদ ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন। ছাত্রাজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর খালিয়াজুরি থানার সহ অধিনায়ক ছিলেন।

১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি ছাত্র থাকাকালেই মোস্তাফা জব্বার সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। সেই সময়ে তিনি সাপ্তাহিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে কাজে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে গণকণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি ট্রাভেল এজেন্সি, মুদ্রণালয়, সংবাদপত্র ইত্যাদি ব্যবসায় যুক্ত হন।

তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)- এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল মেকিন্টোস কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে কম্পিউটার ব্যবসায়ে প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে তিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন।

তাকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র, প্রকাশনা ও মুদ্রণ শিল্পের ডিটিপি বিপ্লবের অগ্রনায়ক বলা হয়। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতাও মোস্তাফা জব্বার। তার হাতেই গড়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজসার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস। তিনি এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক।

মি. জব্বার ‘এসোসিয়েশন অব ট্রালেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ’ বা আটাব-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইতিপূর্বে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস ( বেসিস ) এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তিনি ৪ বার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তথপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখা এবং বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার আবিষ্কার করার জন্য মোস্তাফা জব্বার পেয়েছেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেরা সফটওয়্যারের পুরষ্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গের কমপাস কম্পিউটার মেলার সেরা কমদামী সফটওয়্যারের পুরষ্কার’,

এছাড়াও, দৈনিক উত্তরবাংলা পুরষ্কার, পিআইবির সোহেল সামাদ পুরষ্কার, সিটিআইটি আজীবন সম্মাননা ও আইটি এ্যাওয়ার্ড, বেসিস আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার, বেস্টওয়ে ভাষা-সংস্কৃতি পুরষ্কার, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদ সম্মাননা পুরষ্কার সহ অসংখ্য সম্মাননা ও শুভেচ্ছা পুরষ্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়